ইরানের পর যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট কোন দেশ, জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬ , ০৪:৫৩ পিএম


ইরানের পর যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট কোন দেশ, জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানে ইসলামি শাসনতন্ত্রের পতনের জন্য বেপরোয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম ধাক্কায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পর এবার দেশটির সম্ভাব্য সব নেতাকেই হত্যার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর আগ্রাসনের সামনেও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সমানতালে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ফলে, যতটা সহজে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলে ভেবেছিলেন ট্রাম্প, সেটা তেমন হচ্ছে না। 

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েই লড়াই করে যাচ্ছে ইরান। এ অবস্থায় এ মুহূর্তে নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ইরানের ওপর রাখতে চাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ইরানের সরকার উৎখাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী টার্গেট কোন দেশ, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। খবর সিএনএনের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সেই পরবর্তী টার্গেটের নাম কিউবা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সিএনএনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবার খুব শীঘ্রই পতন হতে যাচ্ছে। তবে, বর্তমানে ইরান আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আমাদের হাতে প্রচুর সময় আছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কিউবা একটি চুক্তি করতে চায়, তাই আমি মার্কোকে (রুবিও) সেখানে নিযুক্ত করতে যাচ্ছি এবং দেখব তা কীভাবে কাজ করে। এটি সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে কিউবারও পতন হবে। 

আরও পড়ুন

সিএনএনের ডানা ব্যাশের সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন সামরিক সাফল্যের গুণগান গাওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, আমি গত ৫০ বছর ধরে এটি লক্ষ্য করছি, এবং আমার কারণেই এটি এখন আমার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এটি পতন হয়েছে এবং সরাসরি আমার কোলেই পড়েছে। আর আমরা খুব ভালো করছি।

বিজ্ঞাপন

এর আগের দিন হোয়াইট হাউসে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকান কিউবানরা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারাটা এখন কেবল সময়ের প্রশ্ন। 

নিজের পররাষ্ট্র সচিবের কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, সে দারুণ কাজ করছে। তোমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে সেই বিশেষ কিউবা। সে অপেক্ষা করছে। কিন্তু সে বলেছে—আসুন আগে ইরানের ইস্যু শেষ করি। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পর এটিই প্রশাসনের পরবর্তী এজেন্ডা হতে যাচ্ছে।

সিএনএনকে তিনি আরও বলেন, আমরা চাইলে সব কাজ একসঙ্গেই করতে পারতাম, কিন্তু তাতে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দেশের দিকে লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন, সবকিছু খুব দ্রুত করতে গেলে খারাপ কিছু ঘটে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে খারাপ কিছু ঘটতে দেব না। 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। নয়দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। 

এ অবস্থার মধ্যেই ইরানের ওপর আরও ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে দেশটি। 

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission